চলতি বছরের জুনে বিশ্বব্যাপী ইস্পাত উৎপাদন কমেছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৮ শতাংশ। এ সময় বিশ্বের ৭০টি দেশে ধাতবপণ্যটির মোট উৎপাদন হয়েছে ১৫ কোটি ১৪ লাখ টন। ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ওয়ার্ল্ড স্টিল) সর্বশেষ প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ।
বিশ্বব্যাপী নির্মাণ খাতের মন্দা, বিশেষ করে চীনের রিয়েল এস্টেট খাতে দীর্ঘস্থায়ী দুর্বলতা ইস্পাতের চাহিদা কমিয়ে দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণে ধাতবপণ্যটির উৎপাদনও কমে এসেছে। এছাড়া ইউরোপের শিল্প খাতেও মন্দা চলছে। এটিও ইস্পাত উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। অন্যদিকে উচ্চ সুদহার ও ভূরাজনৈতিক অস্থিতিশীলতায় অনেক দেশে বিনিয়োগ কমিয়ে দিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, পরিবেশগত মানদণ্ড কঠোর হওয়ায় কিছু অঞ্চলে উৎপাদন খরচও বেড়েছে। সব মিলিয়ে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ইস্পাত শিল্পে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে।
বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদন ও ব্যবহারকারী দেশ চীন। ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুনে দেশটি মোট ৮ কোটি ৩২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের জুনের তুলনায় ৯ দশমিক ২ শতাংশ কম।
বিশ্বে ইস্পাত উৎপাদনকারী দেশগুলোর মধ্যে জাপানের অবস্থান অন্যতম। জুনে দেশটিতে ধাতবপণ্যটি উৎপাদন কমেছে ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। এ সময়ে মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৭ লাখ টনে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইস্পাত উৎপাদন কমার পেছনে মূল্য ভূমিকা রেখেছে জাপানে নির্মাণ ও গাড়ি শিল্পে চাহিদার নিম্নমুখিতা। পাশাপাশি চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশের সঙ্গে রফতানিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। জ্বালানি ও কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়েছে। কঠোর পরিবেশনীতি ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কিছু পুরনো কারখানা আংশিকভাবে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। এতে উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
ভারত দীর্ঘসময় ধরে ইস্পাত উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি বজায় রেখেছে। ওয়ার্ল্ড স্টিল জানিয়েছে, দেশটি গত মাসে মোট ১ কোটি ৩৬ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
ভারতের উৎপাদন বৃদ্ধির পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে নির্মাণ, অবকাঠামো ও অটো খাতে অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধি। ‘মেক ইন ইন্ডিয়াসহ বিভিন্ন প্রকল্পে সরকারি বিনিয়োগও বড় ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি রফতানি বাজার সম্প্রসারণ এবং বড় ইস্পাত কোম্পানিগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ভারতের ইস্পাত শিল্পকে উৎসাহিত করেছে। উন্নত প্রযুক্তি ও নতুন প্লান্টে বিনিয়োগও উৎপাদন বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অঞ্চলভিত্তিতে গত মাসে এশিয়া ও ওশিনিয়া অঞ্চলের দেশগুলো জুনে মোট ইস্পাত উৎপাদন করেছে ১১ কোটি ২৯ লাখ টন, যা আগের বছরের তুলনায় ৬ দশমিক ২ শতাংশ কম। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭টি দেশে উৎপাদন কমেছে ৮ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় অঞ্চলটিতে ইস্পাতের মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৪ লাখ টনে।
আফ্রিকায় উৎপাদন বেড়েছে ৩ শতাংশ। এ সময় মোট উৎপাদন পৌঁছেছে ১৭ লাখ টনে। উত্তর আমেরিকায় উৎপাদন ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৮৭ লাখ টনে পৌঁছেছে। দক্ষিণ আমেরিকায় উৎপাদন ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ৩৫ লাখ টনে।